গল্প

কিছুক্ষন আঙুলে আঙুল ছুঁই,

তোমা[র কপালের শুভ্র চাদরে

আমার ঠোঁটের আবেগী স্পর্শ,

আমাদের স্পন্দিত কাঁপনের অনুভূতি ।

তোমার চোখের দ্বীপে , সপলক পাপড়ি কেন ?

তবে কি অভিমান করেছ ?

আমার বুকের করনারী নদে ভালবাসার ঢেউ জমে আছে ,

ঢেউ স্পন্দনে ভাসবে না তুমি ?

এসো , চোখ মেলে দেখ অনুভব কর –

তোমার আঙুলে আমার আঙুলের স্পর্শ ,

কল্পনার তুলি স্মৃতির রঙ রঙিন ক্যানবাস দেখতে কি পাও ?

ছন্দময় পুরনো পুলকিত সময় ?

তবু এত নিষ্ঠুর কেন বাস্তবতার রঙ ?

কেন সীমাহীন যন্ত্রনা ছড়িয়ে দিচ্ছ ?

আজ তোমায় আমার শেষ স্পর্শ ,

এরপর তুমি দূর আকাশের ধ্রুব তারা ।

নিঝুম নিশির ফোটা ফুল ।

অদূরে অথচ অচেনা দূরবাসী ।

কোন এক শ্রাবণের শুরুতে বৃষ্টি ধোয়া দেহে ,

তুমি এসেছিলে আমার জীবনে ,

প্রকৃতি কণ্যা নির্ঝরে ঝরে ছাদে তখন তুমি , আমি ।

আমাদের ভালবাসার দর্শন !

এরপর রুপালী রাত আর মেঘের লুকোচুরি বুকের ভেতর

অস্থির , অদ্ভূত কাঁপন ,

রজনীর রঙ বদল

স্পন্দিত হৃদয়ে , দর্শানানুভূতির অকুন্ঠ কম্পন ;

তোমার , আমার অপূর্ব সময়ের শুরু ।

সাদা দেয়ালে হলুদ রোদের স্পর্শে যখন সকালের ফুল হাসে ,

তুমি আমি মুখোমুখী আমাদের ভালবাসা ভাসে ।

সেথেকে আমাদের খুনসুটি ,

ছান্দসিক বুকে , বকুল ফোটার অনুভূতি !

তোমার আমার ভালবাসার স্বীকৃতি !

গল্পে গল্পে দুজনার মিলনে বিশাল আকাশে ছড়িয়েছিল বিস্তির্ণ জোছনা ;

নিশিযাপনে কেটেছিল দুষ্টু রাত

জলস্ফীত পুলকে তখন অ্যলকোহলী আমি , তুমি !

বছর গড়িয়ে সেদিন চৈত্রের দুপুরে ,

ভেজা চুলে শুয়েছিলে আমার বুকের উপর ।

জানিয়েছিলে,আমি , তুমি , আমরা হতে যাচ্ছি ;  

তোমার আমার দেহের অনুলিপি ।  

আমি অভিভূত ! আমি সীমাহীন স্পন্দীত !

আমার বেঁচে থাকার নতুন সম্ভাবনা ।

অসংখ্য রাতের কানামাছি খেলার মতো করে.

আজও তোমার হাত চেপে ধরেছি

এত নির্লিপ্ত কেন সে হাত ?

উষ্ঞ আমার এহাত তুমিও কি ধরবে না কখনো ?

তোমার কপালে আমার ঠোঁটের নিভুস্পর্শ ,

তুমিও কি দেবে না ,

চাঁদ বাকা হেসে আমাদের ভালবাসার স্বীকৃতি ?

নিশিযাপন দিবসে হয়ত

এখন চাঁদ তারকাদের বিশাল আকাশে ঘুড়বে তুমি ,

ছাদে বসে বিস্তির্ণ আকাশে অপলক চেয়ে থেকে এখনও ঈর্ষায় বলব ,  

মানুষের হৃদয় এত ছোট কেন ?

ভালবাসার জন্য পর্যাপ্ত জমি নেই তার কাছে

জোছনা ছড়ানো আকাশের মত বিশাল হলে

কি এমন ক্ষতি হতো হৃদয়ের জমিন ?  

এখন আর তুমি সুর মিলেয়ে বলবে না ,  

হৃদয়টাকে আকাশের মত করে দেখ

দেখবে তোমার হৃদয় আকাশের চেয়েও বিশাল ।

আমি মনের আকাশে বিশলতার খুঁজে

ব্যাকুল হয়ে পরতাম ।

এখন আর তুমি আমার আঙুল ছুঁয়ে

ছাদে হেঁটে হেঁটে জোছনায় ভিজবে না ;

তারকাগুলো দেখিয়ে ,

কিশোরীর মত করে আবেগী স্বরে বলবে না ,

দেখ ঝকঝকে আকাশে বকুল ফোটে আছে ,

একটি বকুল ছিড়ে দাওনা !

তোমার বাঁকা ঠোঁটের চাঁদকে দেখতে পাওয়ার লোভে পেয়ে

আমার বলা হবে না, বকুল দেব তোমায়

শিহরিত বাতাসে একবার হেসে অপলক তাকাও আমার দিকে ,

তোমায় রুপালী রাতের বকুল ছিড়ে দেব ।

সে বকুল ছেড়া হয়নি কখনও,

তবু যেন তুমি বকুল খুঁজে পেয়ে তাকাতে,

শিনশিনে শীতল হাওয়ায় অপলক নেত্রের অসহ্য সুন্দর দৃষ্টি ,

সীমাহীন স্পন্দিত হৃদয়ে ,

আমরা দুজন কিছু সময়ের স্থির নিরেট পাথর ,

তোমার চাঁদ বাঁকা ঠোঁট , মায়াবী ভাজ ।

থামিয়ে দিলে তুমি মধ্যরাতের কাঁপন তোলা প্রেম ।

একটিবার চোখ খুলে দেখ,

তোমার গড়ে দেওয়া আমি, আমরা আছি,

অথচ তুমি নেই।

তুমি মালা-কাটা ঝড়ে হারিয়ে গেছ,

অদৃশ্য হয়ে গেছ মেঘে ঢেকে দেওয়া জোছনার মত করে ,

চলে গেছ আমাদের ছেড়ে,

অন্য কোন ভুবনের খুঁজে ।

ছিড়ে দিয়েছ , পৃথিবীর সাথে সকল সুতুর বাঁধন ।

ঝকঝকে রাতের বকুলের মতই তুমি এখন স্পর্শহীনা।

রুপালী রাতের নিশিযাপনে এখনো জোছনা ভাসে ,

অথচ আঙুলে আঙুল ছুঁয়ে তোমার আমার এখন আর জোছনায় ভেজা হবেনা ।

দূর আঁকাশে বকুল ফোঁটে আছে

অথচ বকুল ছেড়ার উচ্ছ্বাসিত অনন্ত কালের কিশোরী 

তুমি নেই ।

খাটিয়া এসে গেছে

এখন তোমায় অন্ধকারে সমর্পণ করা হবে,

ছেড়ে দিচ্ছি,যাও চলে যাও,

নিশিযাপনের জোছনা রাতে তুমি বকুল হয়ে দূর আকাশে এসো ,

আমি রাত জেগে ছাদে বসে তোমার সাথে গল্প করব ।

বৃষ্টি ভেজা ভালবাসার গল্প ।